জাগো উদ্যোক্তা এবং পাট পণ্য

আমরা চাই আমাদের পাটের অতীত ঐতিহ্য ফিরে আসুক। সোনালি আঁশ নিয়ে আবার গর্ব করতে চাই। পাট আবার সেই হারানো গৌরব ফিরে পাচ্ছে। আমাদের জন্য এটা খুবই খুশির খবর। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশি পাটের অবস্থান শক্তিশালী করতে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশে পাটের টেকসই উৎপাদন ও ব্যবহারের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুই—তিন বছর ধরে কাজ করছে। এ দেশের মানুষ যেন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন মোড়কজাত পণ্য ব্যবহার না করে। বিশেষ করে, পলিথিনের মতো পণ্য যেন একেবারেই ব্যবহার না করা হয়।

পাট অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব পণ্য। তাই স্থানীয়ভাবে মোড়কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাটের ব্যবহার যেন বৃদ্ধি পায়। দেশীয়ভাবে পাটের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়লে মানুষের জীবনযাত্রার মানও অনেক বাড়বে। নারীরা পাট দিয়ে বিভিন্ন প্রকার দ্রব্য তৈরি করতে পারেন। তাঁদের তৈরি দ্রব্যের মানও ভালো। ফলে পাটের মাধ্যমে নারীদের আয় বাড়বে, একই সঙ্গে সমাজে তাঁদের ক্ষমতায়ন বাড়বে। পাটপণ্য দেশের লাখ লাখ দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারে। পাটের টেকসই উৎপাদন ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। তাই পাটের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি এ দেশের সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

 

জাগো উদ্যোক্তা লিঃ এর উদ্যোগে ছোট ছোট উদ্যোক্তারা এক হয়ে কাজ করতে পারছে। শিল্প মন্ত্রণালয় পাটজাত খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এখানে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অনেক। আমাদের ১৬ কোটি মানুষের এ দেশ। দেশেই পাটের বিশাল বাজার রয়েছে। দেশে চাহিদা সৃষ্টি করতে পারলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মানুষের আয় বাড়বে। দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করব, দেশে যেন পাটপণ্যের বেশি করে মেলা হয়। সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়। দেশব্যাপী পাটপণ্য ব্যবহারের সচেতনতা, বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়ার সুযোগ, নকশাকেন্দ্র ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা অনেক দূর যেতে পারব।

বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন বিজেএমসি’র পরিচালক মো. শামসুল হক তিনি জানান পাট থেকে এখন গাড়ির যন্ত্রাংশও তৈরি হচ্ছে৷ বাংলাদেশ থেকে এখন বছরে ৬ লাখ টন পাট ও পাটজাতপণ্য রফতানি হচ্ছে৷ বছরে আয় হচ্ছে ৪ হাজার কোটি টাকা৷ এই রফতানি এবং বৈদেশিক মুদ্রা দ্বিগুণ হতে খুব বেশি দিন লাগবে না৷

পাটের সুদিন ফিরে এসেছে৷ বিশ্বব্যাপী সিনথেটিক আর প্লাস্টিকের ব্যাবহার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে৷ যা বাংলাদেশের পাটের বাজারকে বিস্তৃত করছে৷ সারা বিশ্বে ৭০ লাখ টন পাটের ব্যাগের নতুন চাহিদা তৈরি হচ্ছে৷ আর এই চাহিদার বড় অংশই যোগান দিতে হবে বাংলাদেশকে ৷ একারণে বাংলাদেশের পাট সেনালী আঁশ আবার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাতে পরিণত হবে৷

 

চেয়ারম্যান মহোদয়ের বাণী


বর্তমান বিশ্বকে পরিবেশ দূষণ থেকে মুক্ত করার জন্য অনেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ‘‘জাগো উদ্যোক্তা লিঃ’’ প্রাকৃতিক তন্তু সহজলভ্য পাট দিয়ে পাট জাত পণ্য তৈরি এবং ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছে। পরিবেশ বান্ধব পাট পণ্য তৈরির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাজারজাত করণ করে ইউনিয়ন, থানা পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা তৈরি করা সহ বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৬ই মার্চ কে পাট দিবস ঘোষণা করেছেন। জাগো উদ্যোক্তা লিঃ উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বৎসরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে পাট পণ্য রপ্তানি করে দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী। সোনালী আঁশের বাংলাদেশের এই সম্ভাবনা অচিরেই তার পুরাতন ইতিহাস ও ঐতিহ্য ফিরে পাবে। গড়ে উঠবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সোনালী আঁশের (Golden fiber in Bangladesh)সোনার বাংলাদেশ।এই মহৎ উদ্যোগে সবার অংশগ্রহণ এবং সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ মহান।

 

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা(CEO) মহোদয়ের বাণী

 

উদ্যোক্তাদের কৌতুহলী ও মনোযোগী করে তোলার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাট ও পাটজাত পণ্যকে টেকসই ও অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। পলিথিন আমাদের পরিবেশকে দূষিত করছে। তাই বিকল্প হিসেবে সকলের উচিত পাটজাত পণ্য ব্যবহার করা। পাট হতে পাটের ব্যাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়।পাট থেকে আমরা অধিক লাভবান হতে পারি।পাটকে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ বলা হয়। পাট এক সময় বিলুপ্তির পথে ছিল।বর্তমানে পাটের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রনোদনায় ৬ই মার্চকে পাট দিবস হিসেবে ঘোষনা করেছেন। আমি জাগো উদ্যোক্তার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এসডিজির মডেল হিসাবে বিশ্বের বুকে পরিচিত করতে চাই।জাগো উদ্যোক্তার মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরী করার এই উদ্যোগকে আমি আরও তরান্বিত করতে চাই। আমি সকল উদ্যোক্তাদের মঙ্গল কামনা করছি এবং তারা যেন জাগো উদ্যোক্তা লিঃ এর এই উদ্যোগকে সাধরে গ্রহণ করে সেই আশা ব্যক্ত করছি।

মোহাম্মদ শরীফুর রহমান